চীন-মস্কো-তুরস্ক কূটনীতির পর ট্রাম্পের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর—কী বার্তা?
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ নেতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করতে চাইতে পারে যে, ঢাকা বেইজিং, মস্কো ও আঙ্কারার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঝুকিতে বাড়বে, পরিস্থির আরো অবনতি হবে ।
তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুক্ততা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সা সার্জিও গর এর প্রকাশ্য কর্মসূচি রয়েছে আটটি এবং অপ্রকাশিত কর্মসূচি রয়েছে ১২টি। এই ১২টি অপ্রকাশিত কর্মসূচির প্রতিটিই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বৈঠকের মাধ্যমে সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ ইন্দো-প্যাসিফিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে আসতে পারে। তবে ইতোমধ্যে সার্জিও গর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছেন, ঢাকা, দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অস্বস্তি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস কমাতেই এই সফর। অন্যদিকে, বেইজিং পোস্ট এই সফরকে মার্কিন নীতির প্রকাশ্য আগ্রাসন ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের ধারাবাহিকতা হিসেবে মন্তব্য করেছে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সাবেক কূটনীতিকদের একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির জন্য এই সফর খুব একটা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য এই সফরে কোনো ইতিবাচক বার্তা রয়েছে কি না—এটিও এখন আলোচনার বিষয়। এদিকে, দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান যেভাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দপ্তরে ডেকে প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন, তাতে অনেক কূটনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে বৈঠকের কাছাকাছি থাকা এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সৃষ্ট অস্বস্তি নিরসন এবং কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যুতে সমাধানের পথ খুঁজতেই এ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত এসব বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকে তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এ বছরের জানুয়ারিতে সার্জিও গর দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। নয়াদিল্লিকে কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে রেখে তিনি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গরের নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর সেই আঞ্চলিক কৌশলেরই প্রতিফলন।
লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা
সম্পর্কিত সংবাদ
মিথ্যা আশ্বাস ও লুটপাটের রাজনীতি; তীব্র ভোগান্তিতে ধুঁকছে দেশের সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক অপেশাদারিত্বে বিপর্যস্ত জনজীবন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনরোষ।
দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটি উল্টো দ্রুত গতিতে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে । সাফল্যের স্বর্ণযুগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দূরদর্শী পরিকল্পনা । প্রথম পর্ব:
আজ We Don't Care, কাল প্রত্যাবর্তন