এক বীর জননেতার প্রস্থান: আল-আমিন সৈকতের বিদায়ে ভাসল ভৈরব
ভৈরবের রাজপথ আজ নিস্তব্ধ, কিন্তু বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে এক গভীর শোক আর হাহাকারে। ভৈরব পৌরসভা যুবলীগের প্রিয় সাধারণ সম্পাদক ও বারবার নির্বাচিত জননন্দিত কাউন্সিলর আল-আমিন সৈকত আর আমাদের মাঝে নেই। এক নির্মম ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে তিনি চলে গেলেন ওপারে, রেখে গেলেন হাজারো মানুষের অশ্রু আর কখনো না মেটানো এক শূন্যতা।
সৈকতের জানাজায় রূপ নিয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। আনুমানিক চার লক্ষাধিক মানুষের এই অভূতপূর্ব ঢলই প্রমাণ করে দেয়, ভৈরবের প্রতিটা ঘরে, প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর ছিল তার স্থান। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ আজ একসূত্রে গেঁথে কেঁদেছেন; তাদের এই অনিয়ন্ত্রিত কান্না ও অশ্রুসিক্ত ভালোবাসাই বলে দেয় তিনি নিছক কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন মেহনতী মানুষের আপনজন, দুঃখের দিনের সত্যিকারের আশ্রয়স্থল।
রাজনীতির মাঠে সৈকত ছিলেন এক নির্ভীক ও আপসহীন বীর যোদ্ধা। জনগণের অধিকার আদায়ে তার সাহসিকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ভৈরবের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের এই নির্মম ও কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড গোটা অঞ্চলের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রভাব কেবল ভৈরবের সমকালীন রাজনীতিতেই নয়, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনবে।
বাংলার মাটিতে এই নৃশংসতার বিচার অবশ্যই হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই বীরের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা বিচার দাবি করছে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও পরম করুণাময়ের দরবারে জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই আমাদের গভীরতম সমবেদনা।
সময় হয়তো বয়ে যাবে, কিন্তু আল-আমিন সৈকতের নাম ভৈরবের ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না। ঘাতকের বুলেট এক উদীয়মান নেতাকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে দিলেও, সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় তার স্মৃতি ও অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনড় থাকার পথেই বেঁচে থাকবেন আমাদের প্রিয় সৈকত।
লেখক: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
সম্পর্কিত সংবাদ
অবরুদ্ধ এক জাতি: ভেঙে পড়া টিকাদান সাফল্য থেকে দায়মুক্তির ছায়ায়। রোগতাত্ত্বিক মহামারী—বাংলাদেশে ২০২৬ সালের হাম ও ডেঙ্গু সংকট । পর্ব-১
সোনারবাংলার দিগন্তে কৃষিবিপ্লব: বাংলাদেশর পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কালজয়ী যাত্রা। যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তির সোনালী স্পর্শ
একটি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান: কাঠগড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন ও সরকার