ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: তারেকের ভারত সফর ও ভূ-রাজনীতির রূপান্তর
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তবমুখী ও সমতাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই এখন অধিক তৎপর।
দ্বিপক্ষীয় সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব ও উচ্চপর্যায়ের সংযোগ
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরের মূল আকর্ষণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক। এর পাশাপাশি ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীসহ সে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সাথে একাধিক বৈঠকের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রেসব্রিফিংয়ের সুযোগ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
রাজনৈতিক আলোচনার বাইরেও ভারতের শীর্ষ বণিক সমিতিগুলোর সাথে বাংলাদেশে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকল্পে বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
এজেন্ডার মূল বিষয় ও সমাধান রূপরেখা
আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাঁচটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
গঙ্গার পানি চুক্তি ও নদী ব্যবস্থাপনা: গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা সুসংহতকরণ। বিদ্যুৎ সংকট নিরসন: বাংলাদেশ বিদ্যমান বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটাতে ভারত থেকে সরাসরি এবং ভারত হয়ে নেপাল থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া তরান্বিত করা।
জ্বালানি নিরাপত্তা: জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পুনর্নবীকরণ।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সংক্রান্ত কূটনৈতিক নিষ্পত্তি।
শেখ হাসিনা ইস্যু ও দিল্লি-ওয়াশিংটনের নেপথ্য কূটনীতি
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং তার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিলে পর্দার অন্তরালে গভীর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে শেখ হাসিনার কিছুটা নীরব থাকা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনৈতিক কৌশল শিথিল রাখা মূলত আন্তর্জাতিক মিত্র ও দিল্লির সতর্ক পরামর্শের ফসল।
যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যৌথভাবে মধ্যস্থতা রক্ষা করছে, সেখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশ চায় শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফিরে রাজনৈতিক পুনর্বাসন না পেয়ে বরং আইনি প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় একজন দণ্ডিত আসামি হিসেবে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন।
চীনের প্রভাব ও দিল্লির দ্রুত নড়েচড়ে বসা
বাংলাদেশ সরকারের চীন ও এশিয়ার অন্যান্য পরাশক্তির দিকে বাণিজ্যিক মনোযোগ ভারতের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। নিজেদের ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে মোদি সরকার দিল্লির বার্তা পরিষ্কার করেছে: ভারত ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দল কেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে নির্বাচিত সরকারের সাথে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত। এমনকি বিমসটেক ও ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ এই বার্তা আরও স্পষ্ট করে।
লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)
সম্পর্কিত সংবাদ
মিথ্যা আশ্বাস ও লুটপাটের রাজনীতি; তীব্র ভোগান্তিতে ধুঁকছে দেশের সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক অপেশাদারিত্বে বিপর্যস্ত জনজীবন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনরোষ।
দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটি উল্টো দ্রুত গতিতে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে । সাফল্যের স্বর্ণযুগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দূরদর্শী পরিকল্পনা । প্রথম পর্ব:
আজ We Don't Care, কাল প্রত্যাবর্তন