জুলাই হত্যাকাণ্ডে ৭.৬২ গুলি ও ‘স্নাইপার’ রহস্য: দুই বছর পরও মিলছে না বহু প্রশ্নের উত্তর
২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডে, প্রাণহানির অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার। ৭.৬২ মিলিমিটার রাইফেলের গোলাবারুদ, দূরপাল্লার ‘স্নাইপার শট’ এবং সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন থাকলেও এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ রয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে পরস্পরবিরোধী নানা বয়ান। আন্দোলনে সক্রিয় কয়েকজনের দাবি, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন কিছু প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটেছিল, যার উৎস ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ অস্ত্রধারীদের সঙ্গে মেলানো কঠিন। কারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, কোন বাহিনী কোথায় মোতায়েন ছিল এবং হেলিকপ্টার থেকে আদৌ গুলি চালানো হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনও আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত ৭.৬২ গুলির উৎস এবং সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আহতদের শরীরে গুলির ধরন দেখে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর মতে, সিভিল পোশাকের অস্ত্রধারীদের পরিচয় ও তাদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র কীভাবে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত ছিল। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের কিছু পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও র্যাব, বিজিবি বা সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো তদন্তাধীন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে ‘স্নাইপার শট’-এর সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। তবে কোনো স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার হয়নি এবং কারা এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এখানেই। তদন্তের ঘাটতি যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বিকল্প ব্যাখ্যা ও পাল্টা রাজনৈতিক বয়ান শক্তিশালী হচ্ছে। কেউ বলছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ধামাচাপা পড়ছে; আবার কেউ দাবি করছেন, আন্দোলনকে উসকে দিতে পরিকল্পিতভাবে গুলি চালানোর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের প্রাণহানির পূর্ণ সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা, গোলাবারুদের হিসাব, বাহিনীভিত্তিক মোতায়েনের তথ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য—সবকিছুর সমন্বিত তদন্ত। কারণ, ন্যায়বিচারের জন্য শুধু কে নিহত হয়েছেন তা জানা যথেষ্ট নয়; কোন অস্ত্র থেকে, কার নির্দেশে এবং কার হাতে সেই গুলি ছুটেছিল—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরও অপরিহার্য।
লেখক : শচীন বাঙালি,কলামিস্ট ও রাজনৈতি বিশ্লেষক
সম্পর্কিত সংবাদ
মিথ্যা আশ্বাস ও লুটপাটের রাজনীতি; তীব্র ভোগান্তিতে ধুঁকছে দেশের সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক অপেশাদারিত্বে বিপর্যস্ত জনজীবন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনরোষ।
দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত দেশটি উল্টো দ্রুত গতিতে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে । সাফল্যের স্বর্ণযুগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দূরদর্শী পরিকল্পনা । প্রথম পর্ব:
আজ We Don't Care, কাল প্রত্যাবর্তন